Showing posts with label Relagious. Show all posts
Showing posts with label Relagious. Show all posts

Tuesday, July 18, 2017

Hanuman(হনুমান)

Hanuman(হনুমান)


২৮ চৈত্র, ১১ এপ্রিল

২৮ চৈত্র, ১১ এপ্রিল, মঙ্গলবার ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের পরম ভক্ত বজরঙ্গবলী হনুমানজীর জন্মদিন। ত্রেতাযুগের এমনি এক চৈত্রী পূর্ণিমায় মহাবীর হনুমানজীর জন্ম হয়। তাঁর পূত জন্মদিন উপলক্ষে ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে উত্তরভারতে জন্ম নেয়া শ্রীতুলসীদাস গোস্বামীর লেখা হনুমান চালীসা পাঠ করার জন্যে সবার প্রতি অনুরোধ থাকলো। সকল বিঘ্ননাশ এবং কামনাপূরণ হয় এই হনুমান চালীসা পাঠে। উত্তর, মধ্য এবং পশ্চিম ভারতের হিন্দিভাষীদের মধ্যে এটা নিত্যপাঠ্য ; অন্ততপক্ষে হনুমানজীর জন্মবার মঙ্গলবারে এই পবিত্র স্তোত্রটি সবাই পাঠ করে। আমরা বাঙালীরাও কেন বা শ্রীহনুমানজীর কৃপা থেকে বঞ্চিত হবো?


শ্রীহনুমতে নমঃ
শ্রীহনুমান চালীসা
দোঁহা
শ্রী গুরু চরন সরোজ রজ, নিজ মনু মুকুর সুধারী ।
বরনউ রঘুবর বিমল জসু, জো দায়ক ফল চারি ।।
বুদ্ধিহীন তনু জানিকে, সুমিরৌ পবন -কুমার ।
বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি , হরহু কলেস বিকার ।।

চৌপাই
জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর।
জয় কপীস তিহুঁ লোক উজাগর ।।১
রাম দূত অতুলিত বল ধামা।
অঞ্জনী-পুত্র পবনসুত নামা ।।২
মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। 
কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গী ।।৩
কঞ্চন বরন বিরাজ সুবেসা। 
কানন কুন্ডল কুঞ্চিত কেশা ।।৪
হাত বজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ। 
কাঁধে মূঁজ জনেঊ সাজৈ ।।৫
শঙ্কর সুবন কেশরীনন্দন। 
তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন ।।৬
বিদ্যাবান গুনী অতি চাতুর। 
রাম কাজ করিবে কো আতুর ।।৭
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া। 
রাম লক্ষ্মণ সীতা মন বসিয়া ।।৮
সূক্ষ্ম রূপ ধরি সিয়হিঁ দিখাবা। 
বিকট রূপ ধরি লঙ্কা জরাবা ।।৯
ভীম রূপ ধরি অসুর সঁহারে।
রামচন্দ্র কে কাজ সঁবারে ।।১০

লায় সজীবন লখন জিয়ায়ে। 
শ্রীরঘুবীর হরষি উঁর লায়ে ।। ১১
রঘুপতি কীনহী বহুত বড়াঈ।
তুম মম প্রিয় ভরত সম ভাই ।। ১২
সহস বদন তুমহরো জস গাবৈঁ
অস কহি শ্রীপতি কন্ঠ লগাবৈঁ ।।১৩
সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীসা
নারদ সারদ সহিত অহীসা ।।১৪
জম কুবের দিগপাল জহাঁ তে।
কবি কোবিদ কহি সকে কহাঁ তে ।।১৫
তুম উপকার সুগ্রীবহিঁ কীনহা।
রাম মিলায় রাজপদ দীনহা ।।১৬
তুমহরো মন্ত্র বিভীষন মানা।
লঙ্কেশ্বর ভএ সব জগ জানা ।।১৭
য়ুগ সহস্র যোজন পর ভানু। 
লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ ।।১৮
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহীঁ।
জলধি লাঘিঁ গয়ে অচরজ নাহীঁ ।।১৯
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে।
সুগম অনুগ্রহ তুমহরে তেতে ।।২০

রাম দুয়ারে তুম রখবারে।
হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে ।। ২১
সব সুখ লহৈ তুমহারি সরনা। 
তুম রক্ষক কাহূ কো ডড় না ।। ২২
আপনা তেজ সমহারো আপৈ।
তীনৌঁ লোক হাঁক তেঁ কাঁপৈ ।। ২৩
ভূত পিশাচ নিকট নহিঁ আবৈ। 
মহাবীর জব নাম সুনাবৈ ।। ২৪
নাসৈ রোগ হরৈ সব পীড়া। 
জগত নিরন্তর হনুমত বীরা ।।২৫
সঙ্কট তেঁ হনুমান ছুড়াবৈ।
মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ ।।২৬
সব পর রাম তপস্বী রাজা।
তিন কে কাজ সকল তুম সাজা ।।২৭
ঔর মনোরথ জো কোই লাবৈ।
সোই অমিত জীবন ফল পাবৈ ।।২৮
চারোঁ য়ুগ প্রতাপ তুমহারা।
হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা ।। ২৯
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে।
অসুর নিকন্দন রাম দুলারে ।।৩০

অষ্ট সিদ্ধি নৌ নিধি কে দাতা। 
অস বর দীন জানকী মাতা ।।৩১
রাম রসায়ন তুমহারে পাসা।
সদা রহো রঘুপতি কে দাসা ।।৩২
তুমহরে ভজন রাম কো পাবৈ। 
জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ ।।৩৩
অন্তকাল রঘুবর পুর জাঈ।
জঁহা জন্ম হরি-ভক্ত কহাঈ ।।৩৪
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরঈ।
হনুমত সেই সর্ব সুখ করঈ ।।৩৫
সঙ্কট কটে মীটে সব পীড়া। 
জো সুমিরৈ হনুমত বলবীরা ।।৩৬
জয় জয় জয় হনুমান গোসাঈঁ।
কৃপা করহু গুরু দেব কী নাঈ ।। ৩৭
জো শতবার পাঠ কর কোঈ।
ছুটহি বন্দি মহা সুখ হোঈ ।। ৩৮
জো ইয়ে পড়ে হনুমান চালীসা।
হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীসা ।। ৩৯
তুলসীদাস সদা হরি চেরা
কীজৈ নাথ হৃদয় মেঁ ডেড়া ।। ৪০

দোঁহা
পবনতনয় সংকট হরণ, মঙ্গলমুরতি রূপ ।
রাম লখন সীতা সহিত, হৃদয় বসহু সুর ভূপ ।।

ইতি হনুমান চালীসা

Akshaya Tritiya

Akshaya Tritiya(অক্ষয় তৃতীয়া)



 সংক্ষেপে পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া সম্পর্কিত কিছু কথা।
বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিকেই অক্ষয় তৃতীয়া বলা হয় । হিন্দু শাস্ত্রানুসারে অক্ষয় তৃতীয়া অনন্য তাৎপর্যময় এবং পরম মাহাত্ম্যপূর্ণ তিথি। অক্ষয় শব্দের অর্থ হলো যার ক্ষয় নেই ; তাই এই মহাপবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পাদন করলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে।
(আগামী ২৯ এপ্রিল শানিবার অক্ষয় তৃতীয়া)

এ অক্ষয় তৃতীয়া সম্পর্কে শ্রীচৈতন্যের সমসাময়িক স্মার্তচূড়ামণি শ্রীরঘুনন্দন ভট্টাচার্য প্রণীত "তিথিতত্ত্বম্" গ্রন্থে যা বলা আছে তাই সংক্ষেপে সংস্কৃত শ্লোক থেকে বাংলায় অনুবাদের মাধ্যমে তুলে ধরছি :
  • স্মৃতিতে বলা আছে - বৈশাখ মাসের শুক্লতৃতীয়া যদি কৃত্তিকা বা রোহিণীনক্ষত্র যুক্ত হয়, তবে তাকে অক্ষয় তৃতীয়া বলে। এ দিনে দান সহ যে যে পবিত্র কর্ম করা হয় তার সকল ফলই অক্ষয় হয়।
  • ভবিষ্যোত্তর পুরাণে বলা আছে - বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের যে তৃতীয়া তিথি, তা জগতে অক্ষয় নামে প্রসিদ্ধ, তাই দেবগণেরও প্রিয় এ তিথি। যে মনুষ্য এ দিনে জল ও অন্ন-সম্মিলিত কুম্ভ দান করে সে জ্যোতির্ময় সূর্যলোক প্রাপ্ত হয়।
  • ব্রহ্মপুরাণে বলা আছে - বৈশাখমাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়াতে যে ব্যক্তি চন্দনচর্চিত ভগবান শ্রীহরি বিগ্রহ দর্শন করে, সে ভগবানের পরমধামে গমন করে।
  • আরও বলা আছে - শ্রীভগবান বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়াতে সত্যযুগের অবতারণা করেন এবং খাদ্যশস্য হিসেবে যবের উৎপত্তি করেন। তাই এ দিনে যব দ্বারা ভগবানের পূজা করবে এবং ব্রাহ্মণ সহ সকলকে যব দান করবে এবং ভোজন করাবে। এদিনে পতিতপাবনী গঙ্গাও পৃথিবীতে অবতরণ করে। তাই এ দিনে মহাদেব, গঙ্গা,কৈলাস ও হিমালয় পর্বতাদির পূজা করবে এবং সাথে সাথে সগরকুলের ধুরন্ধর ভগীরথ রাজারও পূজা করবে। এ দিনে স্নান,দান, তপ,শ্রাদ্ধ এবং হোম ইত্যাদি যে যে মঙ্গলময় অনুষ্ঠান করবে, তা সকলই অক্ষয় ফল দান করবে।
  • স্কন্ধপুরাণে ভগবান বলছেন- বৈশাখমাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া অক্ষয়া নামে অভিহিত, সেই তৃতীয়াতে আমার শরীর শোভন ও সুগন্ধ লেপনদ্রব্য দ্বারা লিপ্ত করবে।
  • রঘুনন্দনের বলা ছাড়াও আরো অসংখ্য মাহাত্ম্যপূর্ণ এবং তাৎপর্যময় ঘটনার তিথি পবিত্র এ অক্ষয় তৃতীয়া :ভগবানশ্রীপরশুরাম অবতাররূপে আসেন এ দিনেই।
  • শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়নবেদব্যাস এ দিনেই মহাভারতের রচনা শুরু করেন।
  • দশমহাবিদ্যার অন্যতম দেবী ধুমাবতীর আবির্ভাব এ দিনেই।
  • সত্যযুগের শুরু এ দিন থেকেই।
  • ভারতের_উত্তরাঞ্চলীয় চারধামের অন্যতম কেদার বদরীনাথের মন্দির ছয়মাস বন্ধ থেকে এ দিনেই তার দ্বার খুলে দেয়া হয়। দ্বার খুললেই অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ দৈব অক্ষয়দীপের দর্শন হয় সকলের।
  • কুবেরের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন এদিনেই। কুবেরের লক্ষ্মী এবং অতুল ঐশ্বর্য লাভ হয়েছিলো বলে এদিনে তাই বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।
  • পুরীধামে_জগন্নাথদেবের_রথযাত্রা উপলক্ষে রথ নির্মাণ এ দিন থেকেই শুরু হয় এবং আজ থেকেই থেকেই জগন্নাথদেবের ২১ দিনব্যাপী চন্দনযাত্রা উৎসবের সূচনা ঘটে।
  • সকল_দেবস্থানে বিশেষ করে বৈষ্ণবদেবস্থানে এ দিন থেকেই মহাধুমধামে চন্দনযাত্রা উদযাপিত হয়।
  • সাধকপুরুষ_রামচন্দ্রদেবের এ দিনে তিরোধান দিবস। তাই এ দিনে সারাদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ নোয়াখালীর চৌমুহনীতে স্থিত তাঁর সমাধিবেদিতে জল দান করেন।

তাই এদিনে আমরা যদি ভালো কাজ করি, তবে আমাদের অক্ষয় পূণ্য লাভ হবে পক্ষান্তরে তামসিক খারাপ কাজের ফল হবে অক্ষয় পাপের যমযন্ত্রণা । তাই এদিন খুব সাবধানে প্রতিটি কাজ করা উচিত। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে ভুলেও যেন কোনো পাপকাজ আমাদের দ্বারা না হয়ে যায়। এ দিনে ভুলেও যেন মন্দ-কটু কথা না বেরোয় আমাদের মুখ থেকে। তাই এদিন যথাসম্ভব সাত্ত্বিকভাব থাকা প্রয়োজন। আর এদিন পূজা,জপ,ধ্যান,দান,অপরের মনে আনন্দ দেয়ার মত কাজ করা উচিত। এদিনটা ভালোভাবে কাটানোর অর্থ সাধনজগতের পথে অনেকটা অনেকটা এগিয়ে ঈশ্বরের নৈকট্যলাভ । তাই পবিত্র অক্ষয়তৃতীয়ায় শ্রীভগবানের অপার করুণা আমাদের সবার পরমসঙ্গী হোক, এ শুভকামনা রেখে আমার এই লেখাটি শেষ করলাম।
লেখকঃ
শ্রী  কুশল বরন চক্রবর্তী 
সহকারী অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় । 
সভাপতি, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,বাংলাদেশ ।

এসো ঋত-ঋদ্ধির পথে

এসো ঋত-ঋদ্ধির পথে

বর্তমানে আমাদের অনেকেরই ধারণা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণটাই বুঝি বা ব্রিটিশদের অবদান । আমরা অশিক্ষিত চাষা-ভূষা ছিলাম । তারাই আমাদের কাছে প্রথম শিক্ষার আলো নিয়ে এসেছেন । আবার অনেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার করণে বলেন তুর্কিরাই প্রথম মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতবর্ষে আধুনিক শিক্ষার গোড়াপত্তন করেন । তুর্কিরা মূলতঃ সাম্রাজ্যবাদের শেকড় ছড়াতে শুরু করে একাদশ শতাব্দী থেকে । অনুরূপভাবে ব্রিটিশরাও তাদের সাম্রাজ্যবাদী শেকড় ছড়াতে থাকে অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে । তাহলে আমাদের কি নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থা বলতে কিছুই ছিলনা ? সবটাই কি আমরা পেয়েছি এই বিদেশী সাম্রাজ্যবাদীদের থেকে !
এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা আজ বড় প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে । এ ভূখণ্ডের আবহমান সংস্কৃতিকে যারা বুকে ধারণ করে আছে সেই হিন্দু জাতির আজ যাতনার অন্ত নেই । সীমাহীন মিথ্যাচারে আবহমান সংস্কৃতিকে ক্ষত-বিক্ষত করে দেবার জন্য আছে একদল তথ্যসন্ত্রাসকারী । এদের প্রধান লক্ষ্য এ দেশের সংস্কৃতির অভিমুখকে ঘুরিয়ে দিয়ে অতীতের সাম্রাজ্যবাদীদের অপূর্ণ কর্মকে বর্তমানকালে পূর্ণ করে তোলা । সে লক্ষ্যেই চলছে তাদের ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সর্বপ্রকার কর্মকাণ্ড । এ কর্মকাণ্ডে তারা পুরোটাই প্রায় সফল । কারণ তাদের প্রচারণার ফলে হিন্দু জাতি আজ দিশেহারা । হিন্দু কিশোর, তরুণ, যুবক টেরও পাচ্ছেনা যে অজ্ঞাতসারে তারা কোন সর্বনাশা অন্ধকারময় তথ্যসন্ত্রাসের জালে জড়িয়ে যাচ্ছে ।
এ জালে জড়িয়ে পড়ার দায় আমাদেরও কম নয় । ধর্মীয় কি শিক্ষা দিচ্ছি আমাদের ছেলে মেয়েদের ? এককথায় বলতে গেলে কিছুই না । আজ পড়াশুনার পাশাপাশি নাচ, গান, কবিতা, আবৃতি, খেলাধুলা সবকিছু শেখার সময় এবং টাকা পয়সা আমাদের আছে; শুধু একরাশ কার্পণ্য ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে । এর ফল তো আমরা চারপাশেই দেখতে পাচ্ছি । কোর্টে যখন ছেলে মেয়ে ধর্মান্তরিত হয়, তখন মা বাবা কেঁদে কেঁদে বুক ভাসিয়ে ফেললেও কোন লাভ তো হয়ইনা; উল্টো সেই ছেলে অথবা মেয়ের অচিন্ত্য, অস্রাব্য, অসভ্যতা পিতা মাতার সর্বসমক্ষে হজম করতে হয় । আর ধর্মীয় শিক্ষার নামে তাদের যা শিক্ষা দিচ্ছি তা হলো কতগুলো ঠাকুরমা দিদিমার গল্প । অবাস্তব, অলৌকিক পৌরাণিক উপাখ্যান এবং আশাস্ত্রীয় কিছু ব্যক্তিগত মতের কৃত্রিম কথার ফুলঝুড়ি ।
বেদ আমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ । বেদের উপরেই সনাতন ধর্ম প্রতিষ্ঠিত । সেই বেদের ছিটে-ফোঁটাও কি আছে আমাদের জনজীবনে ! বৈদিক সৃষ্টি তত্ত্ব যা কি-না পুরোটাই প্রায় বিজ্ঞানসম্মত অথচ আমরা আমাদের সন্তানদের শিক্ষা দেই, মধু-কৈটভের মেদ থেকেই পৃথিবীর সৃষ্টি; এ কারণেই পৃথিবীর আরেক নাম মেদিনী । পুরাণের এ তথ্যের হয়তো কোন রূপক ব্যাখ্যা আছে । কারণ পুরাণগুলোর তৈরীই হয়েছে রূপকের মাধ্যমে, গল্পের মাধ্যমে বৈদিক জ্ঞানের প্রকাশ ঘটানোর জন্য । আমরা যদি সেই রূপকগুলো ধরতেই না পারি তবে তো সমস্যা হবেই । পুরাণগুলোর অনেক কথাই ব্যঞ্জনা এবং লক্ষণা অলঙ্কারের মাধ্যমে বলা । তাকে যদি আমরা অভিধা অর্থে গ্রহন করি তবে অর্থের বিকৃতি তো ঘটবেই । অর্থাৎ অলঙ্কারের মাধ্যমে সাহিত্যে যা বলা হয়েছে তার সবটাই আভিধানিক অর্থে গ্রহণ করা যাবে না । তাই পুরাণগুলোকে গ্রহণ-বর্জনের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে ।
একটা টেবিলে কিছু ভালো ফল আছে এবং গুটিকয়েক পঁচা ফল আছে । একটা শিশু ফল খাবার জন্য দৌড়ে এসে যদি সেই গুটিকয়েক পঁচা ফলের উপরই তার হাত বাড়ায়, এবং মুখে দিয়ে বুঝতে পারে ফলটি পঁচা; তবে থু দিয়ে সে শুধুমাত্র পঁচা ফলটি ফেলে দিবে তাই নয়, তার ধারনা হবে টেবিলের সব ফলই বুঝি পঁচা এবং হাজার চেষ্টা করেও শিশুটিকে বোঝানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে যে টেবিলে ভাল ভাল সরস ফলও আছে । তার ধারণা জন্মাবে টেবিলের সব ফলই বুঝি পঁচা । এমনটাই প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে প্রায় প্রত্যেকটা হিন্দু পরিবারে । শিশু বয়সে তাকে ঠাকুরমা দিদিমার গাল গল্পের মাধ্যমে যে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয় তার ভিৎ দিন দিন নরবরে হয়ে যায় বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে । একুশ-বাইশ বছরের দিকে তার বুদ্ধি যখন পূর্ণতা পায় তখন সে ভাল মন্দ বিচার করতে পারে । তখন এ ভাল মন্দ বিচার করতে যেয়ে সে ধান এবং ধানের চিটাকে একাকার করে ফেলে এবং অজ্ঞানতার জন্য চিটার সাথে সাথে ধানকেও ঝেড়ে ফেলে দেয় । সঠিক-বেঠিক বোধটাকে সে গুলিয়ে ফেলে । পরিণামে সে হয়ে ওঠে অবিশ্বাসী । এ অবিশ্বাসের মাত্রা দিন দিন বাড়তে বাড়তেই সে হয়ে যায় ঘোরতর নাস্তিক । পরিণামে সে পরিবার, সমাজ, ধর্ম, সংস্কৃতির, মহাবৈরী হয়ে যায় । কিন্তু এর জন্য দায়ী কারা ? আমরাই । কারণ আমাদেরই দায়িত্ব ছিলো শিশুটিকে প্রকৃত বৈদিক শিক্ষা দেয়া এবং তা দিতে পারিনি বলেই আজ এ ঘটনা ঘটেই চলেছে । কিন্তু এ প্রপঞ্চকে আর কতদিন চলতে দেয়া যায় এবং অভিঘাতে আর কত পরিবার ধ্বংস হবে ?
এর উত্তর একটাই, তা হলো অনেক হয়েছে এবার মূলে ফিরুন । অর্থাৎ বেদ-বেদান্তের পথে আসুন । একটা সময় ছিল যখন আমরা পড়ালেখা জানতাম না এবং এ শাস্ত্র গ্রন্থগুলোও আমাদের হাতের কাছে ছিলো না । এগুলো ছিল হাতে লেখা পুঁথি । তখন খুব কম মানুষই পড়ালেখা জানত এবং সেই পড়ালেখা জানা মানুষের মধ্যে খুব কম লোকই সেই গ্রন্থগুলো পড়ার সুযোগ পেতো । কিন্তু আজ তো সেই সমস্যা নেই । আজ আমরা নতুন প্রজন্মের প্রায় অধিকাংশই পড়ালেখা জানি । এর সাথে আমাদের শাস্ত্রগ্রন্থ হাতেলেখা পুঁথি থেকে আজ প্রেসে ছাপা পুস্তক আকারে আমাদের কাছে এসেছে । তাহলে কিসের এতো কার্পণ্য ?
সনাতন ধর্ম সভ্যতার সবকিছুই বেদের উপর প্রতিষ্ঠিত । তাই যতদিন আমরা বেদমাতা থেকে বিচ্যুত থাকব ততদিন আমাদের বর্তমান কালের মত হতভাগা হতচ্ছারার মত দিন কাটাতে হবে । কিন্তু যখন আমরা বেদ মাতার কোলে চড়ে তার অমৃতময় স্তন্য পান করব তখনই আমাদের জাতির জীবনে এক নতুন সূর্যোদয় হবে । যার প্রত্যাশাতেই আমাদের এ মূলে ফেরার আহ্বান, এসো ঋত-ঋদ্ধির পথে । অর্থাৎ সত্য সনাতন পরমেশ্বর এবং এর সাথে জাগতিক সমৃদ্ধিময় সুশৃঙ্খল বৈদিক জীবনের পথে এসো । এখানেই পরম আনন্দ ও শান্তি নিহিত ।
লেখকঃ
শ্রী  কুশল বরন চক্রবর্তী 
সহকারী অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় । 
সভাপতি, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,বাংলাদেশ ।

হিংস্র শ্বাপদে ক্ষতবিক্ষত এই কি আমার মাতৃভূমি ?

হিংস্র শ্বাপদে ক্ষতবিক্ষত এই কি আমার মাতৃভূমি ?

আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা । ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি প্রগতশীল রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন । এরই ধারাবাহিকতায় দেশের চরম দুর্দিনে, মাতৃভূমির টানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক স্বপ্নবাজ যুবকদের সাথে তিনিও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন । স্বপ্ন দেখেন এ দেশটা হবে একটি ক্ষুধামুক্ত অসাম্প্রয়িক রাষ্ট্র, স্থান করে নিবে উন্নত দেশের পঙক্তিতে । থাকবে না কোন হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ । মানুষ মর্যাদা পাবে মানুষ হিসাবে । ৭১ এর টগবগে সেই তরুনের বয়স আজ ষাটের কোঠা থেকে সত্তুরের কোটায় এগিয়ে চলছে । বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে বিশ্বাসের ক্ষয়িষ্ণুতা । বিশ্বাসের চন্দ্রে আজ যেন গ্রহণ লেগেছে । দুষ্ট রাহুর করালগ্রাসের থেকে কোনমতে টিকে আছে সরু একফালি চাঁদ । তাও বুঝি নিভু নিভু করছে ! নিভে গেলেই সব শেষ; অন্ধকার ।